1. gazisalahuddin93@gmail.com : Gazi Salahuddin : Gazi Salahuddin
  2. ksbrujmon@gmail.com : manacusa :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
সদ্য সংবাদ
চাঁদপুরে করোনার যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা হাজীগঞ্জ পার্থ সারথি দেবনাথ (অনিক) এর পঞ্চম প্রয়াণ স্মৃতি স্বরণে অনুদান প্রদান একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ২৪৭ জন, রোগী শনাক্তেও রেকর্ড হাজীগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা জে এইচ নিরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হাজীগঞ্জ পৌর ৬নং ওয়ার্ড যুবসমাজের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হাজীগঞ্জ লকডাউনের প্রথম দিনে ভ্রাম্যমান আদালতে ২৮ মামলা হাজীগঞ্জ লকডাউনের প্রথম দিনে ভ্রাম্যমান আদালতে ২৮ মামলা চাঁদপুরে ফেরিঘাটেই মারা গেল ২০ গরু বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম পাটোয়ারীর ইন্তেকাল ।। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হাজীগঞ্জে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে ভয়াবহ জালিয়াতি

সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারই কাল হলো উপজেলা প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলামের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭৩ Time View

একমাসে তিনবার বদলীর আদেশ

মানবসমাজ রিপোর্টঃ

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এর বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অগ্রনী ভূমিকা রাখায় বদলী হতে হলো উপজেলা প্রকৌশলী ডক্টর মো: জিয়াউল ইসলাম মজুমদারকে

উপজেলা পরিষদের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অগ্রনী ভূমিকায় কাজ করতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলের শিকার হয়ে আজ তিনি ফরিদগঞ্জ থেকে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় বদলী হয়ে চলে যাচ্ছেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ৬(ছয়) একর সম্পত্তি বেহাত অবস্হায় আছে। পরিষদের দখলে মাত্র ৪.৬৭ একর ভূমি। পরিষদে প্রবেশের রাস্তার একপাশে পুকুর এবং অন্য পাশে মাঠ। মাঠ সহ পুকুরে পরিষদের ৬৭ শতক ভূমির সাবকবলা দলিল মূলে মালিকানা থাকলেও বর্তমানে তার পুরাটাই বেহাত। যখনই মাঠে কোন সরকারী প্রোগ্রাম কিংবা পুকুর পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, বারবার বাধা এসেছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মানকে কেন্দ্র করে ঘটনায়, তিনি পরিষদের কয়েকটি দলিলপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যাতে দেখা যায়, পরিষদের নামে ১৯৬৩-৬৪ সালে এলএ কেস ১৯২/৬৩-৬৪ মূলে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহন করা হয়, অথচ পরিষদের বাউন্ডারীর দখলে মাত্র ৪.৬৭ একর ভূমি। অধিগ্রহনের বাহিরে পরিষদের সামনের মাঠ ও পুকুরের ভিতরে কিছু অংশ সহ ৬৭ শতক ভূমি ১৯৫৭ সালে সাবেক সিও ডেভেলপমেন্টের নামে সাব-কবলা দলিল মূলে ক্রয়কৃত । স্হানীয় মৌজা দর অনুযায়ী পরিষদের বেদখলীয় সম্পত্তির বাজার দর প্রায় ১৫০(একশত পঞ্চাশ) কোটি টাকা।

পরিষদের মাসিক সভায় তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করলে ইউএনও মহোদয় ও চেয়ারম্যান মহোদয় পরিষদের স্হাবর সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্হা গ্রহনে পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে আহবায়ক এবং উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলামকে সদস্য সচিব করে একটি উপকমিটি গঠন করে দেন। স্হানীয় সরকার বিভাগের অধীন একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সরকার ও পরিষদের স্বার্থে তিনি আন্তরিকতার সাথে অগ্রনী ভূমিকায় কাজ করতে থাকেন। এতে দখলদারী সুবধাভোগী কিছু মহল উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো সহ ফরিদগঞ্জ থেকে উনাকে বদলীর চেষ্টা চালিয়ে যায়। সরকারী কাজ করতে গিয়ে মহামারী করোনায় আক্রান্ত হলেও এরই মধ্যে বিগত এক মাসে উনাকে তিনবার বিভিন্ন উপজেলায় বদলীর আদেশ করা হয়-যা বিরল ও অমানবিক। অবশেষে, গত ০৪.১১.২০২০ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডির স্বাক্ষরিত রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় বদলীর আদেশ পেয়ে করোনা থেকে সুস্হ হয়ে সেখানে যোগদান পত্র প্রেরন করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে সরকার তথা দেশের উন্নয়নে যে কোন স্হানে যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহনে উনি সদা প্রস্তুত। তথাপি, একজন সিনিয়র উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে বিগত পনের বছর ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে যে দায়িত্ব উনি পালন করে আসছেন, এই অমানবিক বদলীর আদেশে তাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে বলে সবাই মনে করে। করোনা মহামারির লকডাউনে পুরো সময়ে উনি উপজেলায় উপস্হিত থেকে প্রশাসনের সাথে রিলিফ বিতরন সহ সার্বিক দায়িত্ব পালন ছাড়াও ফরিদগন্জে উন্নয়ন কাজের বাৎসরিক টার্গেট থেকেও সর্বদা বেশী অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। নিজের বেতনের টাকায় ও উনার উদ্যোগে লকডাউনে এলজিইডি এবং অফিসার্স ক্লাবের ব্যানারে ফরিদগন্জের গরীব মানুষের মাঝে উনি ত্রান বিতরন সহ মাস্ক, হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরন করেছেন।

প্রমোশনের তালিকায় থাকায় উনি ফরিদগঞ্জ থেকে প্রমোশন নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অথচ, সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে বিশেষ মহলের রোষানলের শিকার হয়ে আজ তিনি দূর্গম এলাকায় বদলী হয়েছেন। তথাপি, উনার দেয়া তথ্যমতে উপজেলা পরিষদের স্হাবর সম্পত্তির সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসলে তা হবে ফরিদগন্জ বাসীর জন্য এক বিশাল পাওয়া।

উপজেলা প্রকৌশলী ড. মো: জিয়াউল ইসলাম মজুমদার দীর্ঘ ছয় বছর ফরিদগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। শুধু ফরিদগন্জ নয় চাঁদপুরের কোন উপজেলায় যখনই কোন উপজেলা প্রকৌশলীর সংকট দেখা দিয়েছে, উনার সুনামের কারনে ডিপার্টমেন্ট তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন। হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সদর সহ হাইমচর উপজেলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরিদগঞ্জে সাত বছর আগে বিভিন্ন সড়কের যেই বেহাল দশা ছিল, গত ছয় বছরে উনি সুস্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সমগ্র উপজেলার সড়ক নেটওয়ার্ক মেরামত সহ উন্নয়ন সাধন করেছেন। উনার আমলেই দীর্ঘদিনের জরাজীর্ন কামতা ব্রীজ, গল্লাক ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ করা সহ স্বাধীনতার পর থেকে ফরিদগন্জ বাসীর দাবী গাজীপুর-ধানুয়া ব্রীজ নির্মিত হয়েছে এবং উটতলী গুদারাঘাটে ডাকাতিয়া নদীর উপর নতুন ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে।

ইসলামপুরেও ডাকাতিয়া নদীর উপর দ্রুত ব্রীজ নির্মান সম্পন্নের পথে। তাছাড়া, কয়েকবার টেন্ডার হলেও ফরিদগন্জ -রূপসা রাস্তা কেউ না নেয়াতে বাস্তবায়নে দেরী হচ্ছে, অথচ এই সড়কটি প্রশস্তকরণের অনুমোদন সহ মানসম্মত ভাবে দ্রুত কাজ করতে উনি অগ্রনী ভূমিকা রাখেন। সকল কাজে স্হানীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা থাকলেও উনার ত্বরিতকর্মা গুনের জন্য ফরিদগন্জে এ কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হয়েছে।

সরকার ঘোষিত ইশতেহারে “আমার গ্রাম, আমার শহর” রূপকল্প বাস্তবায়নে উনি ফরিদগন্জে নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারের রূপকল্পের পথে ফরিদগন্জ উপজেলা বর্তমানে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। ফরিদগন্জের খেলাধুলার উন্নয়নে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উনি নিজেও একজন অলরাউন্ডার খেলোয়ার ও সংস্কৃতি ও সাহিত্য মনা।

ফরিদগঞ্জ বাসী এই দক্ষ ও কর্মঠ প্রকৌশলীকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 manabsamaj
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmanabsom23