1. gazisalahuddin93@gmail.com : Gazi Salahuddin : Gazi Salahuddin
  2. ksbrujmon@gmail.com : manacusa :
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
সদ্য সংবাদ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চুন্নু’র মায়ের দাফন সম্পন্ন হাজীগঞ্জে ১৩০পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান হাজীগঞ্জের কালচো ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান পরিদর্শন করলেন ইউএনও মরহুম হাজী আব্দুল মান্নান চৌধুরী স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কচুয়ায় জানাজা নামাজের অনুষ্ঠান থেকে টাকা ও মোবাইল চুরি হাজীগঞ্জে দুই মামলায় দেড় বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক খোকা গ্রেফতার হাজীগঞ্জে পুলিশ পেটানোর মামলায় বিএনপির ১০৯ নেতা-কর্মীকে জামিন হাজীগঞ্জে সাংসদ এর ঐচ্ছিক তহবিল হতে অসহায়, দুঃস্থ ও অতি দরিদ্রের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ হাজীগঞ্জে বেকার মহিলাদের কর্মসস্থানের জন্য ১৪ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন

শিশুকে আবাসিকে দেয়ার আগে একশতবার ভাবুন

গাজী সালাহউদ্দিন
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৪৯ Time View

আমাদের দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত অথবা মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে অনেকেই জ্ঞান করে থাকেন। সেই হিসেবে এদেশের মানুষ স্বভাবতই একটু ধর্মভীরু হয়ে থাকে। যে কারনে আমাদের মুসলিম সমাজে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ আখেরাতের কল্যাণের কথা ভেবে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই হিসেবে মুসলমানরা তার ও তার সন্তান আখেরাতের কল্যানের জন্য অথবা বেহেস্ত পাওয়ার আশায় মাদ্রাসা অথবা মক্তবে পড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করা নিঃসন্দেহে যৌক্তিক এবং এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপূর্ণ অধিকারও তাদের রয়েছে।

মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে এই ধর্মের প্রতি মানুষের প্রচন্ড দুর্বলতা রয়েছে। আর এই দুর্বলতার জায়গাটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের প্রত্যেক জায়গায় প্রচুর মাদ্রাসাও গড়ে উঠেছে। কোন কোন জেলা উপজেলায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাদ্রাসা অথবা মক্তবও গড়ে উঠেছে। একটি আবাসিক এলাকায় যেখানে দু-তিনটি মাদ্রাসা হলে চলে, সেখানে ৬-৭টি অথবা তারও বেশি মাদ্রাসা গড়ে উঠতে দেখা গেছে। আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন কিছু মতাদর্শ থাকার কারণে কাওমি মাদ্রাসা ও সুন্নিয়া মাদ্রাসা ভিন্ন ভিন্ন নামেও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা পেতে দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক, অনাবাসিক, নূরানী ও হেফজ বিভাগসহ নানা ধরনের বিভাগ। এখন এই ধরনের মাদ্রাসা গড়ে ওঠার কারণে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা তাদের টার্গেট ফিলাপ করতে সাধারণত আখিরাতের কল্যাণের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে এবং করতে হয়। সেটাও কিন্তু দোষের কিছু মনে করছি না। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটে যখন এ সকল মাদ্রাসা শিক্ষার আড়ালে চলে কোন ধরনের অপকর্ম ও নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ।

পরকালের কল্যাণে মাদ্রাসা পরিচালনা করা কোন দূষণীয় কাজ নয়। বরং এর অভ্যন্তরে ধর্মীয় শিক্ষার নামে যখন কুসংস্কার শিখানো হয়, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, রাষ্ট্রের প্রতি উস্কানি দেয়া হয়, আপত্তিটা সেখানেই। অনেক সময় এদের এমন কিছু বিষয় বুঝানো হয় তখন তারা জঙ্গিপনায়ও জড়িয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে তো সমাজের সচেতন মানুষ গুলোর আপত্তি থাকতেই পারে। একটি বিষয় না বললেই নয় একজন স্কুল ছাত্র যখন কোন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তখন সে শুধু তার এবং তার পরিবারের ক্ষতি করে। কিন্তু একজন মাদ্রাসা ছাত্র যখন ধর্মের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে জঙ্গিপনায় ঠেলে দেওয়া হয় তখন সে নিজের, পরিবারের, সমাজের তথা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে দেশের বেশ কিছু ঘটনায় এর প্রমাণ মিলেছে। যা বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

যেখানে মা বাবা সন্তানকে দিয়েছেন আখেরাতের কল্যাণের জন্য ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে।কিন্তু কোথাও কোথাও বের হচ্ছে জঙ্গি হয়ে। কোন মুসলিম সন্তান এমন জঙ্গিপনার দীক্ষায় দীক্ষিত হোক এটা কোনো অভিভাবকের কাম্য নয়। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে কিছু কিছু নামধারী আলেম ওলামা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বোকা বানাচ্ছে এবং তাদের সর্বনাশ করছে।

অন্যদিকে নূরানী,হেফজ, এবতেদায়ী সকল শাখায় মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এদের সংখ্যাও কম নয়। বরং উদ্বেগজনক। যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিতও হয়েছে। এদের মধ্যে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের অনৈতিক ঘটনা অহরহ। শুধু বলাৎকারেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময় ছোট শিশুদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র আমরা কমবেশি দেখতে পেয়েছি। এই ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজসচেতন মানুষগুলোও উদ্বিগ্ন।
তাছাড়া অভিভাবকরা পাঁচ- দশ বছরের শিশুদের কিভাবে আবাসিক মাদ্রাসায় দিয়ে বাসাবাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকেন তাও ভাববার বিষয়!
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যাদের সন্তানদের এভাবে আবাসিক মাদ্রাসায় দিয়ে রাখেন তারা নিজেরাই জানেন না অথবা বুঝেন না এখানে আসলে কি ঘটছে তার সন্তানের সাথে। আর যখন কোথাও কোথাও এমন অনৈতিক ঘটনা ঘটে এবং হাতেনাতে প্রমাণ মেলে তখন তাদের চৈতন্য ফিরে আসে। তাই আবাসিক মাদ্রাসায় দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যথেষ্ট সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুরা মা বাবার সাথে হেসেখেলে কাটানোর কথা। পাশাপাশি সন্তানদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু তাই বলে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে একবারে আবাসিক মাদ্রাসায় দিতেই হবে এটা সমীচীন নয়। অতিরিক্ত ধর্মান্ধতার কারণে এটা এক ধরনের ঘোড়ামী। এ ঘোড়ামির করনে অভিভাবক নিজেই নিজের সন্তানকে ঠেলে দিচ্ছে এক ধরনের বন্দিশালায়।

আমাদের এই বাংলাদেশে স্কুলের চেয়ে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এরমধ্যে আবাসিক মাদ্রাসা গুলোতে ছোট শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বেশি। বিভিন্ন মিডিয়া ও বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ গুলো বিশ্লেষণে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

আবাসিকে দেয়া মানে একটি শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। আর এখানে শিশুরা সবচেয়ে অনিরাপদ হয়ে ওঠে। সাধারণত শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার জন্য অনিরাপদ পরিবেশটাই দায়ী। আবাসিকে যে সকল শিশুদের দেওয়া হয় তাদের সাথে যে ঘটনা ঘটে তার কিছু কিছু প্রকাশ্যে আসলেও অনেক শিশুরা এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা বলতে বা অন্য কাউকে জানাতে ভয় পায়। কারণ যারা তাদের সাথে এ অনৈতিক এবং খারাপ কাজটি করে, তারা শিশুদের আগে থেকেই ভয়-ভীতি দেখিয়ে এমন ঘটনা ঘটায়। যা শিশুরা পরে পরিবারের লোকদের পর্যন্ত জানাতে ভয় পায়।

বিষয়টা আর একটু স্পষ্ট করার জন্য বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি। যা দেশের জাতীয় দৈনিক সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এক. গত বছর ফেনীর সোনাগাজীতে একটি আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুললে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌন নিপীড়ন ও হত্যা মামলায় বিচারের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়।

দুই.চলতি বছরের অক্টোবরের দিকে বাংলাদেশের উত্তরে জয়পুরহাটে একটি মাদ্রাসায় ৪টি শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এ অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

তিন. জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটি নূরানী মাদ্রাসায় অক্টোবরের শেষের দিকে চারটি কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। পরে অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মাদ্রাসার শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

চার.নূরানী মাদ্রাসায় সাধারণত কোরান পড়ানো হয়। জয়পুরহাটে এমন একটি নূরানী মাদ্রাসায় শিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।
শুধু তাই নয় মোজাহিদপুরের একটি নূরানী মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষা দেওয়া হতো ভোরবেলায়। সেখানে ১১,১২ও ১৩ বছরের কন্যা শিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠাতেন অভিভাবকরা।সেখান সকল শিশু নিয়মিত যৌন নিপীড়নের শিকার হতো। এক পর্যায়ে অভিভাবকদের মধ্যে জানাজানি হয়।
অভিভাবাক ও স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অভিযোগ করলে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সম্প্রতি দেশের আরো কয়েকটি জায়গায়ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি মহিলা আবাসিক কাওমি মাদ্রাসায় ১৩ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাটির হোস্টেল সুপারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি আবাসিক মাদ্রাসা ২ জন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেফতার হয়।
গত ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকার পশ্চিম শ্যামলী গরুর হাট এলাকায় আল এহসান নূরানী ও হেফজো মাদ্রাসায় দুই শিশু শিক্ষার্থী বলাৎকারের শিকার হয়। এই অভিযোগে ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুই শিশু শিক্ষার্থীই ছিল হেফজো বিভাগের ছাত্র।

গত কয়েক বছর মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এমন অহরহ অভিযোগ উঠেছে। এসব মাদ্রাসার মধ্যে আবাসিক মাদ্রাসার সংখ্যাই বেশি। মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বেড়ে যাওয়া শিশুদের যৌন নিপীড়ন রোধে সরকার কর্তৃক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন জরুরী। একটি জেলা-উপজেলায় কি পরিমান মাদ্রাসা আছে, কি ধরনের মাদ্রাসা আছে, উপজেলা ভিত্তিক তার সঠিক পরিসংখ্যান রাখতে হবে। শুধু তাই নয় সরকারি দপ্তরের অনুমোদন ব্যতীত যত্রতত্র মাদ্রাসা যেন গড়ে না ওঠে সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরী। একটি এলাকায় আবাসিক মাদ্রাসা কতটুকু প্রয়োজন তা শিশুদের নিরাপত্তা সহ ভাবতে হবে।

পরকালের কল্যাণের কথা চিন্তা করে যে সকল অভিভাবক ছোট্ট শিশুটি আবাসিকে ঠেলে দিচ্ছেন তার নিরাপত্তার কথা না ভেবেই। এখন থেকে আগে শিশুদের নিরাপাত্তার বিষয়টি ভাবতে হবে অভিভাবকদের। আপনার শিশুকে আদর যত্নে লালন পালন করার দায়িত্ব আপনারই। পড়ার লেখার জন্য বিদ্যালয় অথবা মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন সময় পর্যন্ত তাকে পাঠাতে পারেন। কিন্তু এর বাইরে কারো নিকট আপনার শিশুটিকে সোর্পদ করবেননা। কারণ আপনার শিশুর প্রতি আপনার থেকে অন্য কেহ ভালো দায়িত্ব পালন করতে পারবেনা। পরকালের কথা ভেবে অথবা পরকালে কল্যাণের চিন্তা করে শিশুকে আপনি মাদ্রাসায় দেন, কিন্তু এত অল্প বয়সে বিশেষ করে ৫-১৩ বছরের শিশুকে আবাসিকে দেওয়ার আগে অন্তত একশতবার ভাবুন। আপনার যত্নে গড়া সোনামণিকে যে আবাসিকে দেবেন সেখানে সে কতটুকু নিরাপদ এটা অবশ্যই আগে ভাববার দাবি রাখে। সবার মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক এবং সুবোধ জাগ্রত হোক। আগামীর আবাসভুমি প্রতিটি শিশুর জন্য হোক নিরাপদ, এটাই প্রত্যাশাই করছি।

লেখকঃ সাংবাদিক, চারুশিল্পী ও শিক্ষক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 manabsamaj
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmanabsom23