1. gazisalahuddin93@gmail.com : Gazi Salahuddin : Gazi Salahuddin
  2. ksbrujmon@gmail.com : manacusa :
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
সদ্য সংবাদ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চুন্নু’র মায়ের দাফন সম্পন্ন হাজীগঞ্জে ১৩০পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান হাজীগঞ্জের কালচো ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান পরিদর্শন করলেন ইউএনও মরহুম হাজী আব্দুল মান্নান চৌধুরী স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কচুয়ায় জানাজা নামাজের অনুষ্ঠান থেকে টাকা ও মোবাইল চুরি হাজীগঞ্জে দুই মামলায় দেড় বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক খোকা গ্রেফতার হাজীগঞ্জে পুলিশ পেটানোর মামলায় বিএনপির ১০৯ নেতা-কর্মীকে জামিন হাজীগঞ্জে সাংসদ এর ঐচ্ছিক তহবিল হতে অসহায়, দুঃস্থ ও অতি দরিদ্রের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ হাজীগঞ্জে বেকার মহিলাদের কর্মসস্থানের জন্য ১৪ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন

২০২১ এ আমরা দেশকে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই

গাজী সালাহউদ্দিন
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৬ Time View

ইংরেজি বর্ষ ২০২০ বিদায় নিল। এলো ২০২১ সাল। ২০২০ সালে আমাদের দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমন সজন হারানোর দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে কিছু মানুষকে। বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে বিভিন্ন কারণে। কোন কোন মানুষের কাছে ২০২০ সালটি কিছু কারণে কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে।

২০২০ সালটি শুরু হয়েছিল করোনা মহামারীর ভয় আতঙ্ক ইত্যাদির মাধ্যমে। কারো কারো জন্য এটি আতঙ্কের কারণ হলেও কিছু কিছু মানুষ এই সময়টাকে বেছে নিয়েছে লুটপাটের সময় হিসেবে। করোনা মহামারীতে এদেশে বন্ধ ছিল না লুটপাট, চুরি-চামারি, হত্যা ও ধর্ষণ কোনকিছুই।

২০২০ সালের প্রথম দিকে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায় চীনের উহান শহরে। তখন বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমনের সূত্রপাত নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক শুরু হয়। কোন কোন দেশের অভিযোগ চীনে জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা সময় ল্যাব থেকে এর সংক্রমণ শুরু হয়। যদিও তখন চীন তা অস্বীকার করে বলেছিল বাদুর অথবা শূকর থেকে এ সংক্রমণ ঘটতে পারে। সে যাই হোক যাদি বাদুর ও শূকরের মাংস খেয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটায় তার জন্য তারা দায়ী কম নয়। চীনের উহান শহর থেকে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারাবিশ্ব এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেতে থাকে। তখন আবার দেশে বিদেশে কিছু মানুষ এ সংক্রমণকে একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কোন কোন মুসলমানরা এটিকে আল্লাহ তালার প্রদত্ত গজব হিসেবে দেখেছেন। যারা এটিকে তখন আল্লাহতালার গজব হিসেবে দেখেছেন তারাও যদি নিজেদের শুধু পরিবর্তন করতো তাহলে সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর হতো।

আমাদের দেশে করোনা মহামারী সংক্রমণ শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চের প্রথম দিকে। ব্যাপক সংক্রমণ প্রতিরোধে তখন মার্চের ১৭ তারিখ থেকে দেশে লকডাউন দিয়ে দেয় সরকার। এতে খাদ্যসামগ্রীর দোকান, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ছাড়া সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। কঠোর ভাবে এই লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে মাঠে থেকে হন্যে হয়ে কাজ করতে হয়েছিল। মাত্র দেড় থেকে দুই মাসে লকডাউন এর সময় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে ঘরে রাখার চেষ্টা করে সরকার। কিন্তু এ খাদ্যসামগ্রী দিতে গিয়ে আমরা কি দেখেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধিদেরকে গরীব অসহায়দের খাদ্য সামগ্রী লুট করতে দেখেছি। যা পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে আমরা দেখতে পেয়েছি।

করোনাকালীন সময় মানুষের সবচাইতে আস্থার জায়গাটি হওয়া উচিত ছিল, তা হচ্ছে হাসপাতাল। হাসপাতাল গুলোতে তখন করোনার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা না থাকলেও হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে ডাক্তার এবং হাসপাতালের ঠিকাদাররা মাস্ক ও পিপিই নিয়ে যে নোংরা বাণিজ্য করেছে তা নজিরবিহীন।
এতে দেশের সাধারণ মানুষের উপকার না হলেও দেশের কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে সাবরিনা আর মিঠু এমন আরও অনেকের দারা।

মানুষের জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে করোনা টেস্ট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে কিন্তু তারা ভুলেনি। তখন তাদের কাউকে কাউকে প্রশাসন ধরলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কোন বিচার হয়েছে কিনা তা দেশবাসী জানতে পারেনি।

করোনাকালীন সময়ে মানুষের জন্য মুখ্য বিষয় ছিল খেয়ে প্রাণে বেঁচে থাকা। সেখানেও কিন্তু মানুষ ভোগান্তির শিকার কম হয়নি। দেশের সব জায়গায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু ও আদা ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে কোটিপতি হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাসাধারণ হয়েছে আরো নিঃস্ব। দেশের সকল ধরনের খাদ্য সামগ্রীর প্রচুর মজুদ থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশিরভাগ অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের টাকা পয়সা লুটে নিয়েছে। অথচ খাদ্যদ্রব্যের বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও দেশের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সফলতা আমাদের চোখে পড়েনি।

প্রথমদিকে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করতে দেখেছি। তাতে মনে করেছিলাম দেশের বেশিরভাগ মানুষ চরিত্র পাল্টাবে। সৎ হবার চেষ্টা করবে। কিন্তু না করলেও কিছু কিছু মানুষকে দেখেছি আরও অসভ্য, অসৎ ও অমানবিক হতে।

সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণ, বিভিন্ন আবাসিক মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার, ছোট শিশুদের যৌন নিপীড়ন এবং ঢামেক হাসপাতাল মর্গে কিশোরীদের লাশের সাথে যা হয়েছে সবগুলোই প্রমাণ করেছে মানুষ কতটুকু অসভ্য ও অমানবিক হয়েছে।

ঐ সময়ে দেশে দেড় মাস লকডাউনে অর্থনীতিতে মারাত্মক ধ্বস সৃষ্টি হয়। এ সময় দেশের বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, চাকরি হারিয়েছে। বিশেষ করে যারা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিল সবচাইতে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। তাদের পাশে না দাঁড়াতে পারাও সরকারের বড় ধরনের একটি ব্যর্থতা। লকডাউনের পর দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করে ঘুরে দাড়ালেও এখনও দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ আয়-রোজগারহীন রয়ে গেছে।

২০২১ এ পা রেখে আমরা দেশকে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। পাশাপাশি সকল মানুষ মানবিক ও শুদ্ধ মানুষের পরিচয়ে নিজেদের জানান দিবে এ প্রত্যাশাই করি।

লেখকঃ সাংবাদিক, চারুশিল্পী ও শিক্ষক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 manabsamaj
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmanabsom23