1. gazisalahuddin93@gmail.com : Gazi Salahuddin : Gazi Salahuddin
  2. ksbrujmon@gmail.com : manacusa :
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
সদ্য সংবাদ
জানাজা শেষে ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যু ফায়ার সার্ভিস ইউনিট অগ্নি নির্বাপনের ক্ষেত্রে আর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হৃদয়ের পক্ষ থেকে ডিসি,এডিসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা হাজীগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য আইন জনসচেতনতায় ‘ক্যারাভান রোড শো’র উদ্বোধন হাজীগঞ্জ মজুমদার পোল্ট্রি ফার্মে তিন সহস্রাধিক মোরগের মৃত্যু হাজিগঞ্জ নোয়াপাড়া শাহী বাগদাদী (রহ:) জামে মসজিদে তৃতীয় বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চুন্নু’র মায়ের দাফন সম্পন্ন হাজীগঞ্জে ১৩০পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান হাজীগঞ্জের কালচো ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান পরিদর্শন করলেন ইউএনও

শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে অভিভাবক নিজেদের নীতি-নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে

গাজী সালাহউদ্দিন
  • Update Time : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৩৬ Time View

শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০২০। এ ২০২০ সালটি ছিল মানুষের জন্য একটি অভিশাপ। কারণ এই ২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দেশের সাজানো-গোছানো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অভিভাবকদের অসহযোগিতা ও সরকারের সহযোগিতার অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

করোনা মহামারী চলতি বছরের প্রথম দিকে চীনের উহান শহরের এ রোগের সংক্রমণ শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চের দিকে আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হওয়া শুরু হলো এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এ মাসের মাঝামাঝি সময় দেশে লকডাউন দেয় সরকার । সেই সাথে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির ঘোষণা দিয়ে দেয়া হয়। ফলে বিদ্যালয় এর পর থেকে ক্লাস নয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষা ব্যবস্থাটা কে একেবারে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিজস্ব উদ্যোগে, নিজস্ব কারিকুলাম ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় অনলাইন ক্লাস, ভিডিও ক্লাস, গ্রুপ মেসেঞ্জার, ফেইসবুক পেজ ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়মিত হোমওয়ার্ক গুলি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। অনলাইনে প্রশ্ন দিয়ে CT, MT পরীক্ষা নেওয়ার মধ্যমে পরীক্ষার বিষয়টিও চলমান রেখেছে। অন্যদিকে প্রথম অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনায় তারাও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস গুলি চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে রাখা, পড়ালেখা থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করা,শিক্ষা ব্যবস্থাটা তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে অনেকটা রক্ষা করেছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এরপরেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা ও কোন ধরনের সহানুভূতি পায়নি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি।

সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা ও সাড়া না পেলেও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একটি বক্তব্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি টিকিয়ে রাখার একটি সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
করোনাকালীন সময়ের জন্য দেশে প্রায় দেড় মাস কঠোর লকডাউন চলে। কিন্তু এরপর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতীত সকল মিল- কারখানা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে।
এরপরেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেহেতু ক্লাস হচ্ছে না সেক্ষেত্রে স্কুলের টিউশন ফি দেওয়ার ব্যাপারে কিছু কিছু অভিভাবক আপত্তি তোলেন এবং বাঁধ সাধেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী একটি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে স্পষ্ট ভাবে কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি নিতে পারবে না এমন কথা বলার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেছিলেন, বিদ্যালয়ে ক্লাস না হলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস করা হয়েছে। বিদ্যালয় পানির বিল বিদ্যুৎ বিল কিছুটা কম হলেও অনলাইন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে তাদের অন্যদিকে খরচ হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও ভবন ভাড়া ইত্যাদি চলমান রাখতে হয়েছে। শিক্ষকদের কথা তো ভাবতে হবে। তাদেরও তো ঘর সংসার আছে, পরিবার-পরিজন আছে। সুতরাং স্কুলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এইজন্য যারা অভিভাবক আছেন তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধ করবেন। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ অথবা করোনার কারণে কর্ম হারিয়েছেন, বেকার হয়েছেন। তারা আলোচনা সাপেক্ষে ডিসকাউন্ট নিতে পারেন। যারা একসাথে টিউশন ফি দিতে না পারবেন,তারা আলোচনা সাপেক্ষে কিস্তি করে দিতে পারেন, সময় নিয়ে দিতে পারেন।
এরপরেও কিছু কিছু সুবিধাবাদী অভিভাবক বিদ্যালয় টিউশন ফি না দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তাল বাহানা করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বছরের প্রথম থেকে ভর্তি ফি, সেশন ফি, টিউশন ফি সবকিছুর ফি আটকে রেখে অনেকেই বিনা টিসিতে অন্য বিদ্যালয় ভর্তি করানোর পাঁয়তারা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে কিছু কিছু প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।
যদি এমনটি হয়ে থাকে তা হবে অভিভাবকদের জন্য একটি বিভাগ বিবেকবর্জিত কাজ। যুক্তিসংগত কথা হচ্ছে একজন শিক্ষার্থী একটি বিদ্যালয়ে যতদিন পর্যন্ত ভর্তি থাকবে ওই পর্যন্ত স্কুলের সকল পাওনা পরিশোধ করা তাদের কর্তব্য। আর ওই বিদ্যালয়ে পড়াতে না চাইলে অভিবাবকরা ভর্তি ক্যান্সেল করিয়ে এবং বিগত সময়ের দেনা পাওনা পরিশোধ করে ছাড়পত্র নিয়ে নেওয়া উত্তম। আমি মনে করি বিবেকবান ও সচেতন লোকেরা তাই করবেন।

প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু অসাধু অভিভাবক পুরো বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন ধরনের ফি না দিয়েই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি করানোর পাঁয়তারা করছেন। এটা কতটুকু মানবিক, ন্যায়, ও সততার মধ্যে পড়ে তা অভিভাবকরাই ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে অভিভাবক নিজেদের নীতি-নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেয়ার পয়োজনও রয়েছে।

অভিভাবকরা একদিকে বিদ্যালয় স্থানান্তর করতে চাইলে তার শিশুটি যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল সেখান থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধ করে আসাই উত্তম। অন্যদিকে যে সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিবেন তাদেরও উচিত পূর্বতন বিদ্যালয় থেকে টিসি নেয়া এবং পূর্বতন বিদ্যালয় বকেয়া পাওনা পরিশোধ করছেন কিনা তা অন্তত জিজ্ঞেস করে নেওয়া। যা অবশ্যই নীতি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে।
আমরা সচেতন মানুষ হিসেবে আশা করব যেসব বিদ্যালয় এবার নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করাবেন তাদের কাছ থেকে টিসি নেওয়ার চেষ্টা করবেন অথবা সে পূর্বতন বিদ্যালয়ের বকেয়া বেতন পরিশোধ করছে কিনা তাও জিজ্ঞেস করে নিজেরা নিজের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিবেন। এতে বিদ্যালয় গুলো ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে।

লেখকঃ সাংবাদিক, চারুশিল্পী, শিক্ষক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 manabsamaj
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmanabsom23